যুক্তরাষ্ট্রে নানা আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সন্ধান২৪.কম : অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়া এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যকারীদের দেশে ফেরত এনে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবীতে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
১৫ আগষ্ট মঙ্গলবার এ উপলক্ষে প্রতিটি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ : ১৫ আগষ্টের এই দিনে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই একটি কালো অধ্যায় রচনা করেছিল দেশদ্রোহী শত্রুরা । যারা নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেন তাদের জন্য এই শোক দিবসের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতির। তাই শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামীতে দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ গত ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার প্রধান অতিথির ভাষণে বাংলাদেশ আ.লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগ গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ শামসুল আলম হীরু একথা বলেন।

রাত ৮টায় এস্টোরিয়ার হ্যালো বাংলাদেশ রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এই শোক সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুদ্দিন আজাদের সভাপতিত্বে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দুলাল মিয়া এনামের সাথে যৌথ ভাবে সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান।
আলোচনায় অংশ নেন মাহবুবর রহমান,দেওয়ান বজলু, স্বীকৃতি বড়–য়া, শাহীন আজমল আব্দুল হাসিব মামুন,লুৎফুল কবীর, শাহনাজ মমতাজ, ,সেলিনা আজাদ,নিতাই পাল,রফিকুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া, আবুল হাসান,রায়হান মাহমুদ,গাজী লিটন,ইকবাল হোসেন,খোরশেদ খন্দকার,জাহানারা আলী প্রমূখ।

প্রধান অতিথির ভাষণে সৈয়দ শামসুল আলম হীরু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু ব্যক্তি মুজিবুর রহমান-কে হত্যা করেনি, তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করতে। কিন্তু ঘাতকেরা বাঙ্গালির মন থেকে যেমন বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবিকে মুছে ফেলতে পারেনি; তেমনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চিরন্তন শিখাকেও নিভিয়ে দিতে পারেনি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর উপর বারবার আক্রমণের কথা উল্লেখ ক’রে শামসুল আলম আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের এই হুমকী মোকাবেলা ক’রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
অন্যান্য বক্তরা বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যকারীদের দেশে ফেরত এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।
শোক দিবসের কর্মসূচীতে ছিল বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন,দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা।
গভা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্টেট আওয়ামী লীগ,মহানগর আওয়ামী লীগ,এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করে।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস :
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে (মঙ্গলবার) জাতীয় শোক দিবস এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (ইকনোমিক) মোঃ মেহেদি হাসান, মিনিস্টার (কর্মাস) মোঃ সেলিম রেজা, কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোঃ মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সেলর শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি।
এ উপলক্ষে পরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান জাতির পিতা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের অন্যান্য শহিদের প্রতি গভীর প্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর মহান আত্মত্যাগ ও ২৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।


জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন :

“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের একযোগে কাজ করার বিকল্প নেই।” নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরর হমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ,আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ গ্রহণ করেন। মিলনায়তনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতসহ উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবার : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মামুন টিউটরিয়েলের এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে গত ১৩ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর ও সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন জালাল উদ্দিন জলিল।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত বীর মুক্তিযেদ্ধাবৃন্দসহ অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়রে উপ উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ডীন অধ্যাপক মতলুব আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে সাপ্তাহিক ঠিকানা সম্পাদক মো: ফজলুর রহমান, নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যাপক মিসেস হোসনে আরা, টিভি ব্যাক্তিত্ব বেলাল বেগ, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, কামরুল হাসান চৌধুরী, এম এ হাসান, শাহ মো: বখতিয়ার, এম এ করিম জাহাঙ্গীর,আসাফ মাসূক, আক্তার হোসেন, ওবায়দুল্লাহ মামুন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা ৭৫ এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটানা তূলে ধরে বলেন, আজ আবার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারকেও ক্ষমতাচ্যূত করতে খুনী জিয়ার দল তাদের ইসলামিস্ট এলায়েন্স জামাত ও অন্যান্য সন্ত্রাসী দলসমূহ নিয়ে মাঠে নেমেছে সেই পুরনো মোড়ল মার্কিনীদের সহায়তায়।

Exit mobile version