সন্ধান২৪.কম : শহীদুন্নবীকে হত্যার ঘটনায় রংপুর শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । তার দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর কান্না দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ।
পরিবারের ভাষ্য, মানসিক চিকিৎসার জন্য শহীদুন্নবী ভারতীয় ওষুধ সেবন করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মোটরসাইকেলে করে বুড়িমারী সীমান্ত এলাকায় ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে উন্মত্ত জনতা পুড়িয়ে মারে।

নিহত শহীদুন্নবী রংপুর শহরের শালবন রোকেয়া সরণি এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে এবার এইচএসসির পাস করেছেন ও ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জুয়েলের এক নিকটতম আত্মীয় অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে জুয়েল মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন ছিল। এ কারণে তার চাকুরীও চলে যায় । কিন্ত জুয়েল নিয়মিত নামাজ পড়তো, ধর্মের প্রতি খুব শ্রদ্ধা ছিল, সেই জুয়েলকে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বীভৎস উৎসবে পুড়িয়ে মারলো । কোন সুস্থ্য মানুষ আর একজন মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে না। এটা মেনে নেয়া যায় না ।
শুক্রবার সকালে শহীদুন্নবীর শালবনের বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসীসহ আত্মীয়স্বজনের ভিড়। শহীদুন্নবীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার আহাজারি করছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী অনেক সহজ সরল ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। যারা গুজব ছড়িয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।’
স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে ২০১৬ সালে চাকরি চলে যাওয়ায় শহীদুন্নবীর একমাত্র উপার্জনপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে সব সময় ওষুধ সেবন করতেন।
শহীদুন্নবীর বোন হাছনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, মানসিক যন্ত্রণার কারণে তাঁর ভাই ভারতীয় ওষুধ খেতেন। তাই সীমান্তের বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় চেনাজানা মানুষজনের কাছে ওষুধ আনাতে গিয়েছিলেন।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন সংস্থা ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে।
বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী (৫০)। তাঁর বাড়ি রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ায়। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত হন সুলতান জোবায়ের নামের একজন। তাঁর ও শহীদুন্নবীর বাড়ি একই এলাকায়।


