হাজারো মানুষের ভীড়ে নিউইয়র্কে দুইদিনব্যাপী ১৪৩৯ বঙ্গাব্দকে বরণ

সন্ধান২৪.কমঃ নানান অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কে বিভিন্ন সংগঠন ১৪৩৯ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিল।
বর্ণিল আয়োজন ও আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কে এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব শেষ হয়েছে।
প্রথম দিন টাইমস্কয়ারে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ঐতিহাসিক এ বর্ষবরণের প্রথম দিন স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়লা হাসান।

দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মঙ্গল শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস।
এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড আয়োজিত বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ উদযাপনের দুইদিন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর সমাবেশ ঘটেছিল।
১৪ এপ্রিল টাইমস স্কয়ারে শতকণ্ঠে বরণ করা হয় ১৪৩৯ বঙ্গাব্দকে। ভোর ৬টা ২০ মিনিটে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে আবহমান বাংলার সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় নতুন বাংলা বছরকে। বৈশাখের পথম দিন বিশ্ব মানবতার মঙ্গল চেয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে।


জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন ধরনের পরিবেশনা এবং বৈশাখী মেলা। বর্ষবরণের আহ্বায়ক একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং ভারতের কমলিনি মুখোপাধ্যায়সহ শতাধিক শিল্পী এ আয়োজনে অংশ নেন। দুইদিনব্যাপী নান্দনিক এই উৎসরের সঙ্গীত পরিচালনা করেন মহিতোষ তালুকদার তাপস।
সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মঙ্গল শোভাযাত্রা উদ্বোধন করে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বাংলাদেশিদের ভূঁয়সী প্রশংসা করে বলেন, অজস্র মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমি অভিভূত। আমেরিকার অগ্রগতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সেক্টরে যে ভূমিকা রাখছে তা অতুলনীয়। এ সময় উৎসব স্মারক হিসেবে এরিক অ্যাডামসকে উত্তরীয় ও উৎসব পাঞ্জাবি উপহার দেন আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সভাপতি বিশ্বজিত সাহা ও তোফাজ্জল লিটন। প্রধান সম্পাদক নুরুল বাতেন বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ স্মারকগ্রন্থ মেয়েরের হাতে তুলে দেন।
এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন্নবী, সংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস এবং বাংলাদেশ ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি নুরুল আমিন বাবু।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্যের কথা তুলে এরিক এডামকে জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ। সার্বিকভাবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের পাশে থেকে সহযোগিতা থাকার জন্য অ্যাডামসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের ডেপুটি কমিশনার দিলীপ চৌহান বলেন, বাংলাদেশিরা অতিথি পরায়ণ ও সংস্কৃতিবান।
অনুষ্ঠানের ২য় দিন জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিখ এডামসকে গাইবান্ধা সোসাইটির পক্ষ থেকে গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী রসমঞ্জরী মিষ্টি দেয়া হয়।
শতকণ্ঠে বাংলা বর্ষবরণের আহ্বায়ক লায়লা হাসান বলেন, অন্তত দশ হাজার লোকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এ আয়োজন সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী জনগোষ্ঠীরা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে যেখানে বাংলাদেশিরা থাকবে সেখানেই এই উৎসব হবে।


বিশ্বজিত সাহা বলেন, বাংলার বারওয়ারী মেলার নানান উপাদানসহ নানা ধরনের স্টল, শিশুদের যেমন খুশি চিত্রাঙ্কন, গরম গরম ইলিশ ভেজে পান্তাভাতের সঙ্গে পরিবেশন, সারাদিন বাংলা নাচ, গান, কবিতা, নাটক, বিদেশিদের কণ্ঠে বাংলা গান, মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ পুরো প্রাঙ্গণটি এক টুকরো বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল।
তোফাজ্জল লিটন বলেন, এবারের মতো আগামী বছরও বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারসহ বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্রে আরো বড় আকারে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ।
দুইদিনের উৎসবে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বাংলাদেশীরা। এ সময়ে জ্যাকসন হাইটস পরিনত হয় এক টুকরো বাংলাদেশ।
বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩০ উ্ৎসবে আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে এবং বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কানাডা ও অন্যান্য দেশ থেকে অংশ নেন শিল্পী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বাংলাদেশীরা।
এ ছাড়াও ঈদের পর আনন্দধ্বনী, উদীচী, শোটাইম মিউজিক,প্রকৃতিসহ বিভিন্ন সংগঠনও বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

Exit mobile version