ইউনূস নিউইয়র্কে এলেই কালো পতাকার বিক্ষোভ, হুঁশিয়ারি আওয়ামী লীগের

সন্ধান২৪.কমঃ   প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক আসছেন।

সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে পা দিলেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখাবে। ইউনূস যেখানে যাবেন সেখানেই গো-ব্যাক স্লোগান দেওয়া হবে। ইউনূসের সেই সফরের প্রায় দেড়মাস আগে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

এদিকে আওয়ামী লীগের  এই  হুঁশিয়ারি শুনে এনসিপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে, পরোক্ষেভাবে আওয়ামী লীগদের ‘উত্তমমধ্যম’ দেওয়ার ইঙ্গিত করেছেন। সেই নেতা আওয়ামী লীগের  উদ্দেশ্যে বলেন, ওঁদের একটা কথা বলছি, যাঁরা কালো পতাকা দেখাতে যাবেন, তাঁদের শরীরেও কালো দাগ হবে। সেটা যেন মাথায় রাখেন।’

গত ১৫ বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে আসা শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র  আওয়ামী লীগ স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্ত এই প্রথমবার তাদেরকে বিরোধী অবস্থানে থাকতে হচ্ছে-দেখাতে হচ্ছে বিক্ষোভ।

অবৈধ সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসে অপশাসন,খুন-হত্যা,জ্বালাও-পোড়াও,মব সন্ত্রাসের বিরোধিতায় নিউইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্রে  আন্দোলন, মিছিল-মিটিং চলছে। নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দলের শাখা ও সহযোগী সংগঠন প্রতিদিন মিছিল-মিটিং,সভা-সমাবেশ করছে। সেখানে ইউনূস ‘ঠেকাতে’ নানা পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহন করা হচ্ছে।

প্রতিবাদের এই পরিবেশে কিছু দিন আগে গত ২৪ আগষ্ট নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিরোধ করেছিলেন। সেখানে কালো পতাকা আর গো-ব্যাক স্লোগানের মুখে পড়েছিলেন মাহফুজ । কনস্যুলেটের সামনে বেশ কিছু ডিম ছোঁড়া হয়।

সে প্রসঙ্গ টেনেই গত শনিবার আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ইউনূস নিউইয়র্কের যে দিনই যেখানেই আসুন, কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করা হবে। এখানেও মানুষ গো-ব্যাক স্লোগান দেবেন।’ যদিও এই কর্মসূচির বিশদ কিছু বলতে চান নাই সেই নেতা । বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিউইয়র্কের কয়েকটি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

ড. ইউনূস নিউইয়র্কে আসা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ অব্যহত চলছে নিউইয়র্ক শহরে।শহরের একাধিক জায়গায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও ইউনূস ‘ঠেকাতে’ ছোট-বড় সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।

ইউনূস সরকারের   শোষণে সাধারণ মানুষের দিশেহারা অবস্থা। অর্থনীতিতে সংকট চলছে। জেলায় জেলায় মব সন্ত্রাস কর মানুষ হত্যা চলছে । উপদেষ্টাদের সম্পদের পরিমান বাড়ছে। জনজীবনের দুর্দশা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো ও জনগণকে বিভক্ত করে আন্দোলন গড়ে উঠার পথ বন্ধ করার জন্যই উগ্র ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিরোধ কর্মসূচী-জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

নিউইয়র্কে আসা বাংলাদেশের অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত, দখলদার, অবৈধ ও ব‍্যার্থ  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অশান্তির গড ফাদার ও সুদখোর ইউনুসের বিরুদ্ধে স্মরণ কালের মহা প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে-যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ (দক্ষিণ), যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ (পশ্চিম), নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট আওয়ামী লীগ সমূহ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুব মহিলা লীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী ফোরাম সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সংগঠন সমূহ।

সমাবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড.সিদ্দিকুর রহমান,ড.প্রদীপ রঞ্জন কর,মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী,শাহ বখতিয়ার আহম্মেদ,আব্দুল হাসিব মামুন,মহিউদ্দিন দেওয়ান,শাহনাজ মমতাজ,ইমদাদ চৌধুরী,হিন্দাল কবির বাপ্পা, নুরুজ্জামান সর্দার,কাজী আজিজুল হক খোকন,জয়নাল আবেদীন, আব্দুল হাসিব মামুন, হাজী এনাম, মো: সোলায়মান আলী, জাহাঙ্গির হোসেন, শেখ আতিকুল ইসলাম, সৈয়দ কিবরিয়া জামান, এ কে এম তারিকুল হায়দার চৌধুরী, শাহ সেলিম আহমদ, জেড এ জয়, জাহাঙ্গীর মিয়া প্রমুখ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে  নিউইয়র্ক আসছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার সাথে প্রতিনিধি দলে অংশ নেবেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন তিনি।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি রওনা হবেন বলে জানা গেছে। সফর শেষে তিনি আগামী ২ অক্টোবর দেশে ফিরবেন ।

 

Exit mobile version