সন্ধান২৪.কম : গত বুধবার বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক চার লাখ মানুষের শরীরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব যখন একটি কার্যকর টিকার দ্বারপ্রান্তে, তখন সংক্রমণ নিয়ে একটি ভয়াল দিন পার হলো। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনা শনাক্তের পর এই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হলো।
মূলত ইউরোপে ফের উদ্বেগকজনক হারে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে এই পরিস্থিতির। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক প্রাণহানি ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। অবশ্য কয়েক মাস ধরেই মৃত্যুহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে।

হাইলাইট
► ইউরোপ-আমেরিকার ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণেই সর্বাধিক শনাক্ত ► প্রাণহানি ১১ লাখ ছাড়াল ► টিকার জন্য মুখিয়ে কোটি কোটি মানুষ
তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক দৈনিক সংক্রমণ তিন লাখের কোঠা ছাড়িয়ে যায়। এরপর ৪১ দিনের মধ্যে ২২ দিনই এই পরিস্থিতি দেখা যায়। সর্বশেষ গত বুধবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে শনাক্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে যায়।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের লেখচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনার ৯ মাসের মধ্যে শুরুর পাঁচ মাসে দৈনিক সংক্রমণ এক লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০ মে থেকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। জুলাইয়ের শুরুতে দৈনিক সংক্রমণ দুই লাখের কোঠা পার করে। এ মাসেরই শেষে সংক্রমণ তিন লাখ ছুঁই ছুঁই করছিল। গত মাসের শুরুতে ২৪ ঘণ্টায় সেই তিন লাখ আক্রান্ত শনাক্তের ঘটনা ঘটে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সাড়ে ছয় মাস ধরে বৈশ্বিক মৃত্যুহার ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। বর্তমানে মৃত্যুহার কমে ৩.৬৩ শতাংশে নেমেছে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ২১৪টি দেশ ও অঞ্চলে কভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছে প্রায় দুই কোটি ৯৪ লাখ মানুষ। আর নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৯০ লাখে।
ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির কারণেই সর্বাধিক শনাক্ত
আক্রান্ত ও মৃত্যুর নিরিখে এখন পর্যন্ত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন মুলুকে সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার সেখানে শনাক্ত হয় ৬০ হাজার রোগী, যেখানে আগের দিনই এই সংখ্যা ছিল ৫১ হাজার।
এদিকে সম্প্রতি ইউরোপের অনেক দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ দেখা গেছে। এর মধ্যে কিছু দেশের পরিস্থিতি প্রথম ঢেউয়ের চেয়েও ভয়াবহ। গত বুধবার ইউরোপের ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ছয় হাজারের মতো। অর্থাৎ প্রতিনিয়ত রোগী বাড়ছে ইউরোপে।
আর জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল গত বুধবার বলেছেন, প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩৫ বা ৫০ জনের সংক্রমণের প্রবণতা দেখা দিলেই যেকোনো এলাকায় বেশ কিছু কড়াকড়ি চালু হবে। পানশালায় রাতে কারফিউ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে পার্টির ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নতুন বিধি-নিষেধ চালু করা হচ্ছে। এক বাড়ির লোকজন আরেক বাড়ির লোকজনের সঙ্গে খেলাধুলা বা পানশালায় যেতে পারবে না। আর স্কুল ও বার বন্ধ করা হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে; নেদারল্যান্ডসে ক্যাফে-রেস্তোরাঁ বন্ধের পাশাপাশি আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ বাড়ায় পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত আতিথেয়তার মতো বিষয়গুলো বন্ধ রাখতে হবে।
টিকার জন্য মুখিয়ে বিশ্ব
মহামারি ঠেকাতে একটি কার্যকর ও নিরাপদ টিকার জন্য মুখিয়ে আছে দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ। আগামী দুই মাসের মধ্যে টিকা পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ পার করার আশায় আছে কয়েকটি প্রকল্প। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনার টিকার অনুমোদন দিয়ে গত আগস্টে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে পুতিনের দেশ রাশিয়া। এরই মধ্যে ‘স্পুিনক-ভি’ নামের এই টিকার ১২০ কোটি ডোজের ফরমাশ দিয়েছে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশ। তবে বড় ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই অনুমোদন দেওয়ায় টিকাটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় আছে। এরই মধ্যে গতকাল আরেকটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে মস্কো। আর চীন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর নাগাদ তাদের টিকা সাধারণের নাগালে আসতে পারে। বর্তমানে চীনের তৈরি চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে আছে।
এরই মধ্যে চীনের বায়োটেক কম্পানি সিনোভ্যাক উদ্ভাবিত টিকা করোনাভ্যাক নিয়ে আশা-জাগানিয়া খবর মিলেছে। সম্প্রতি ব্রাজিলে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ওই টিকার ‘খুবই ইতিবাচক’ ফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সাও পাওলোর গভর্নর জেয়াও দোরিয়া। তিনি আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলে এই টিকার প্রয়োগ শুরু হবে।