সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস (প্রভু)’র মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আবেদন ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ সংগঠন।
১ নভেম্বর শুরু হওয়া এ আবেদনে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৬১৩জন স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে । এতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিওয়ালীর আগে শ্রীচিন্ময় প্রভু’র মুক্তি দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নেতা শিতাংশু গুহের নেতৃত্বে স্বাক্ষরিত আবেদনটি ৬০৭ জন শেয়ার করেছে।
এতে বলা হয়েছে যে, ‘পূর্ববর্তী সরকার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দী করেছে, তিনি খুনি নন, তবুও তিনি একটি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তাঁকে মুক্তি দিন।’
এতে বলা হয়, প্রথমত, তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কারণ তার একজন অনুসারী বাংলাদেশের পতাকায় ইসকনের পতাকা রেখেছিলেন। যখন বোঝা যায় যে তাকে এই মামলায় ফাঁসানো যাবে না, তখন তাকে অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে এই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি প্রভু (ধর্মাবতার), আমি মাছ বা মাংস খাই না কারণ আমি পশু হত্যায় বিশ্বাস করি না, অথচ আমার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেছেন, ‘প্রভু, আমি কেবল রাষ্ট্রের সেবা করি’।
আবেদনপত্রে বলা হয়, অ্যাডভোকেট আলিফের হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। তিনি ভাল মানুষ ছিলেন। চিন্ময় প্রভু ষড়যন্ত্রের শিকার, তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাজিরার দিনই অ্যাডভোকেট আলিফকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। চিন্ময় প্রভু তখন পুলিশ হেফাজতে একটি ভ্যানে ছিলেন। এ মামলায় আরো ক’জন হিন্দু যুবক অভিযুক্ত, তাঁরা কারাগারে। বিএনপির এক কর্মী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে একই দলের প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন যে, বিএনপি কর্মীকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা মামলা করতে বাধ্য করেছিল।
এতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা ভাল লক্ষণ। তার দলের এক কর্মী চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে, যার জন্য প্রভু এখনও কারাগারে রয়েছেন। যদিও তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তবে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উদ্ভূত। কারণ তিনি হিন্দুদের অধিকারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জামায়াত-এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) এবং ইসলামিক ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলি ছাড়া দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চায়। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধৈর্য ধরে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি চাই।’
পিটিশনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনি জানেন যে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার নামে বারবার সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে, রামু থেকে নাসিরনগর, কুমিল্লাসহ বহু জায়গায় ব্লাসফেমির অজুহাতে মানুষ হত্যা করা হয়, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, মহিলাদের মর্যাদা লুন্ঠিত হয়। অথচ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করেছে যে একটি গোষ্ঠী যে কোনও উপায়ে হিন্দুদের নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এটি বন্ধ করা দরকার।’
‘সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট) আইনটি হিন্দুদের বিরুদ্ধে ‘ব্লাসফেমি’ আইনের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে’, পিটিশনে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনটি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এতে পুন্: চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি এবং ইসলাম ধর্মকে অপমান করার মিথ্যা অভিযোগে হিন্দুদের উপর নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, সমগ্র বিশ্ব জানে যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে, এটি দেশের জন্য লজ্জাজনক; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে পারেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ‘সাম্প্রদায়িক’ হয়ে গেছে, এটিকে অসাম্প্রদায়িক করতে হবে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়েছে।
পিটিশনে বলা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই বলে একটি বক্তব্য বারবার আসছে যা সত্য নয়। রাষ্ট্র একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেয় এবং অন্য ধর্মকে সম্মান করে না। রাষ্ট্রের ধর্ম থাকলে ধর্মীয় ‘সংখ্যালঘু’ থাকবে। অতীতে সব সরকার জেনেশুনে মিথ্যাচার করে যে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার উদাহরণ। যদি তাই হয়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৪জন হিন্দু নির্বাচিত হবে কেন? ঐ নির্বাচনে বিএনপি ৬জন, জামায়াত ও এনসিপি ১জন করে সংখ্যালঘু মনোনয়ন দিয়েছিলো। এতে আরো বলা হয়, বর্তমান সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কার্যকরভাবে কিছু করুক। সম্প্রীতি নিয়ে ভাষণের দরকার নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষ হলে এই ধরনের মিথ্যাচারের দরকার পড়েনা।
রাষ্ট্রকে সকল নাগরিকের জন্যে সমানভাবে কাজ করতে হয়, কোন নির্দিষ্ট ধর্ম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য নয়। আবেদনে বলা হয়, সোমবার ৩ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কোনও আইনজীবী চট্টগ্রাম আদালতে তাঁর পক্ষে হাজির হতে পারেননি। এজন্যে আদালত বাধ্য হয় শুনানির তারিখ ০২ জানুয়ারী ২০২৫ পর্যন্ত পেছাতে। চিন্ময় প্রভুর পক্ষে হাজির হওয়ার কথা ছিলো অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ-র, তাঁকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এরও আগে চিন্ময় প্রভু’র জামিন শুনানি শেষে তাঁর আইনজীবী রমেন রায়কে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে গুরুতর আহত করা হয়, তিনি এখনো শয্যাশায়ী। পিটিশনে বলা হয়, এতসব ঘটনার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি চিন্ময় প্রভুকে মুক্তি দিন।


