ঠাকুরগাঁয়ে মন্দির-মুর্তি ভাংচুরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বক্তারা
বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ

সন্ধান২৪.কম ঃ ঠাকুরগাঁয়ে ১৫টি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় নিউইয়র্কে প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারী সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় জ্যাকসন হাইটস ডাইভারসিটি প্লাজায় এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ ।
সমাবেশে বক্তরা, বাংলাদেশে ধারাবাহিক ভাবে ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ এবং
ঠাকুরগাঁয়ে সহিংসতার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। এর আগে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ইউনাইটেড হিন্দুস্ অব ইউ এস এ এর নেতা ভজন সরকারের সভাপত্বিতে রামদাস ঘরামির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আহবায়ক নিত্যানন্দ কিশোর দাস, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা,সিনিয়র নেতা সুশীল সিনহা,বিষ্ণু গোপ,প্রিয়তোষ দে, সন্জিত কুমার ঘোষ,অজিত চন্দ্র, দীনেশ মজুমদার,মতিলাল দাস,নারায়ন রায়,কুমার বনিক, ভবতোষ মিত্র ,জলি সাহা, চম্পা সরকার নন্দী,মিতু চক্রবর্তী ,নিতাই পাল,রামদে, মিথুন কুমার সাহা,পারিজাত দাস,মৃন্ময় ব্যানার্জী রাম দে প্রমুখ।

প্রিয়তোষ দে বলেন,ধনতলা ইউনিয়নের সিন্দুরপিন্ডি থেকে টাকাহারা পর্যন্ত একটি হরিবাসর মন্দির, একটি কৃষ্ণ ঠাকুর মন্দির, পাঁচটি মনসা মন্দির, একটি লক্ষ্মী মন্দির ও একটি কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া চাড়োল ইউনিয়নে একটি কালীমন্দির, পাড়িয়া ইউনিয়নে একটি বুড়া-বুড়ি মন্দির, একটি লক্ষ্মী মন্দির, একটি আমাতি মন্দির এবং একটি মাসানমাঠ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা চাই, প্রশাসন ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করুক। সেইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করা হোক।”
বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ন ভাবে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে দীনেশ মজুমদার বলেন,আত্মরক্ষা করা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ ছাড়া বাংলাদেশে হিন্দুর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তাই আত্ম রক্ষায় জন্য সংখ্যালঘু তথা হিন্দুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
উত্তম কুমার সাহা বলেন,প্রতিমাগুলোর হাত-পা, মাথা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেছে। আবার কিছু প্রতিমা ভেঙে পুকুরের পানিতে ফেলে রেখেছে। বাংলাদেশে বার বার এমন ঘটনা ঘটছে অথচ তার কোন প্রতিকার হচেছ না।
বিষ্ণু গোপ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠাকুরগাঁয়ে এলাকার মানুষ জীবদ্দশায় এর আগে কখনও কেউ এ ধরনের ‘ভয়ানক তান্ডব’ দেখেননি। এমনটা হতে পারে এটা তাদের ‘কল্পনারও অতীত’ ছিল জানিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে এর পর কী?
উল্লেখ্য, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর রাত পর্যন্ত সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
সুশীল সিনহা বলেন,এটা খুব দুঃখজনক। এটা শুধু আমাদের ধর্ম না। যে কোনো ধর্মে কেউ এটা মানে নিবে না। কয়েক কিলোমিটার দূরে দূওে মন্দিরে তিন-চারটা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তাহলে নিশ্চয়ই এটা কোনো দীর্ঘ পূর্বপরিকল্পনা ছিল, দীর্ঘদিনের। নাহলে তো এভাবে এটা হতো না।
কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়,তার নয়টি দাবীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,৭২ সালের সংবিধান পুণঃপ্রতিষ্ঠা,একটি সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয় গঠন,সংখ্যালঘু মানবাধিকার কমিশন গঠন,দেবাত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আইন প্রনয়ণ,সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ।
এর মধ্যে ধনতলা ইউনিয়নে নয়টি, চাড়োল ইউনিয়নে একটি এবং পাড়িয়া ইউনিয়নে চারটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানান বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম।

Exit mobile version