সন্ধান২৪.কম : নিউইয়র্ক বইমেলার আলোচনা সভায় তাজুদ্দিন আহমদের কন্যা শারমিন আহমদ বলেছেন, তাজুদ্দিন আহমদকে ‘ফুটনোটে’ রেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রচিত হতে পারে না। তিনি বলেন, তাজুদ্দিন আহমদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তাকে খাটো করে, তাকে ফুটনোটে রেখে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যাবে না।

বইমেলার দ্বিতীয় দিনে শনিবার শারমিন আহমদ ‘একুশ থেকে একাত্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি একাত্তরের পঁচিশে মার্চ পূর্ববর্তী সময় থেকে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে তাজুদ্দিন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং প্রাজ্ঞ কর্মকুশলতার বিশদ বর্ণনা দিয়ে বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে সংসার ধর্ম পালন করেননি। তিনি মুজিবনগর সরকারের নামে নেয়া অফিসের পাশের একটি ছোট ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখানেই পুরো সময়টা অবস্থান করেন। তার ব্যবহারের জন্য ছিল একটি মাত্র শার্ট। সেটিই তিনি নিজের হাতে কেচে-ধুয়ে পরতেন। যারাই তার মুক্তিযুদ্ধকালীন ছবি দেখেছেন তারাই লক্ষ্য করে থাকবেন সব সময় তার গায়ে ওই একটিই পোষাক।
ড. নূরুন নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরো অংশ নেন অধ্যাপক এবিএম নাসির ও অধ্যাপক দেলোয়ার আরিফ। তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধে তাজুদ্দিন আহমদের অবদানকে তুলে ধরে তাকে ইতিহাসের যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব অঅরোপ করেন। শারমিন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন বলেন, গণপরিষদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাজুদ্দিন অহমদ মুজিবনগর প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের কারাগারে আটক মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং আওয়ামী লীগের সহ সভাপদি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল। এ সরকার গঠিত হয়েছিল ১০ এপ্রিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের ইতিহাসে এই ঐতিহাসিক দিনটির কোন উল্লেখ নেই। আমরা এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছি। এই দিনটিকে বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে ঘোষণা করা যেতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে কোন উদ্যোগ কখনও গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের সাথে কুষ্টিয়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যওয়া আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে তারা স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপিত করবেন। তিনি বলেন, বাংলার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে তারা যৌক্তিকভাবেই স্বাধীন বাংরাদেশ সরকার গঠনের অধিকারী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সেই বৈঠকেই তারা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রবাসী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেন। শারমিন আহমদ তার লেখা একটি বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও তাজুদ্দিন আহমদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নূরুন নবী বলেন, তাজুদ্দিন আহমদকে সম্মান জানাবার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সম্মান আরো বৃদ্ধি পাবে। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ফাহিম রেজা নূর।