কার্যকরী পরিষদের সভায় বোর্ড অফ ট্রাস্টি গঠন ।। ভবন ক্রয় অচলাবস্থা নিরসনে সাবেক কর্মকর্তাদের সভা
সন্ধান২৪.কমঃ গত ৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সংগঠনের কার্যকরী পরিষদ সভায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ৪ সদস্যের বোর্ড অফ ট্রাস্টি মনোনীত করা হয়। মৌলভীবাজার কোটায় বদরুন নাহার খান মিতা, সিলেট কোটায় কাওছারুজ্জামান কয়েছ, সুনামগঞ্জ কোটায় সায়দুন নূর এবং হবিগঞ্জ কোটায় অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীকে ট্রাস্টি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

জ্যামাইকার হালাল ডাইনারে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং সহ সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সিলেট বিভাগের সকল সংগঠনকে নিয়ে সম্মেলিতভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। বশির খানকে আহবায়ক, জাহিদ আহমেদ খানকে সদস্য সচিব এবং হেলিম উদ্দিন, শামীম আহমদ, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মানিক ও মিজানুর রহমানকে সদস্য করে একুশ উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে ইফতার মাহফিল ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য সফিউদ্দিন তালুকদারকে আহবায়ক, মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন হয়। এ ছাড়াও আগামী যৌথ সভায় শোকজ প্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সিন্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ লোকমান হোসেন লুকু, সহ-সভাপতি সফিউদ্দিন তালুকদার, সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ শাহিন কামালী, সহ-সভাপতি বশির খান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলিম, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ খান, কার্যকরী সদস্য হেলিম উদ্দিন, শামীম আহমদ, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মানিক ও মিজানুর রহমান।
ভবন ক্রয় অচলাবস্থা নিরসনে সাবেক কর্মকর্তাদের সভা
ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র বিভক্ত হয়ে পড়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি কমিটির দুটি অংশ এবং সাধারণ জালালাবাদবাসী। এই অচলাবস্থা নিরসনে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কর্মকর্তারা সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তারই অংশ হিসেবে আলী গত ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে কেনা জালালাবাদ ভবনে সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময় করেন প্রাক্তণ ও সাবেক কর্মকর্তরা। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ শতকত আলী সাংবাদিকদের বলেন,বর্তমান কমিটির সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু,সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমদ জিল্লুর সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের মতামতের ভিত্তিকেই আমরা একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলেছি। শতকত আলী বলেন,‘আমাদের সবার মনে রাখতে হবে এটা জালালাবাদবাসীর সংগঠন,গুটিকতেক ব্যক্তির সংগঠন নয়।’ তিনি সভাপতির কর্মকা-ের সমালোচনা করে বলেন, তারা এই সংগঠনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বর্তমান নিজেও গঠনতন্ত্র মানছেন না। তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে শো কজ করা হয়েছে। তিনি সেই শোকজের উত্তরও দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে বহিষ্কার করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। তাকে বাদ দিয়ে সভাপতি কীভাবে কার্যকরি কমিটির সভা ডাকেন এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ট্রাস্টি বোর্ড গ্রহণ করেছেন। সভাপতির কর্মকা-ে মনে হচ্ছে তিনি সমঝোতা চান না। তিনি কেন সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড করলেন। তবে আমরা এখনো সমঝোতার পক্ষে।
সাবেক সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল বলেন, আমরা সমঝোতার পক্ষে। ভবন ক্রয়ের সময় দি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে আমরা বসে তা সংশোধন করবো। তিনি আরো বলেন, গত সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত ছিলো আমরা ভবন ক্রয় করবো। সেই অনুযায়ী, আমরা সুযোগ পেয়ে ভবন ক্রয় করেছি। এতে কারো ক্ষোভ সৃষ্টির তো কারণ দেখি না। তিনি আরো বলেন, এই ভবনটি আমাদের স্বপ্ন পূরণ করেছে। তা ছাড়া এটা লাভজনক ভবন। এই ভবনের মর্টগেজ আসে পাঁচ হাজার চারশ ডলার। আর এই ভবন থেকে আয় হবে ছয় হাজার ৮শ ডলার। তাছাড়া নিচের ফ্লোরটি আমরা বিনা পয়সা ব্যবহার করতে পারছি। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে সমঝোতার। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে আমরা ভবন চাই।
কার্যকরি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এই অচলাবস্থা দেখতে চাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটনা এবং জালালাবাদবাসীর সম্মানহানি দেখতে চাই না। তিনি সাবেক কর্মকর্তাদের বৈঠকের আহ্বান জানান।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কেন সাধারণ সভা স্থগিত করা হলো? সাধারণ সভা হলে এই সমস্যার সমাধান হতো। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে আমরা ভবন চাই।
সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব সময় প্রস্তুত ভবন দেয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, বর্তমান সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ চাইলে রিফাইন্যান্স করে তাদের নাম মর্টগেজে ঢোকাতে পারে। আমার কোনো অসুবিধা নেই। আবার ট্রাস্টি করেও ভবনকে ঋণ মুক্ত করা যায়। প্রতিটি থানা থেকে ট্রাস্টি নিয়োগ করা যায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কর্মকর্তা মওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকী, এম এ করিম, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান, সোহেল, বাবু, ইয়ামীন রশিদ, মোহাম্মদ মঞ্জুর, হাসান আলী প্রমুখ।