সন্ধাান২৪.কম প্রতিবেদন : ‘জোসনা উৎসব’, কথাটির মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত শীতলতা, নান্দিকতা ও মাধুর্যতা। সমুদ্র গর্জন আর চমৎকার আবহাওয়ায় এই জোসনা উৎসবে সংস্কৃতি প্রেমিরা সিগ্ধ আলোয় নিজেদের উজার করে দেয়ার স্বপ্নঘোরে মগ্ন ছিলেন।


গতকাল ৩১ জুলাই নিউইয়র্কের জোসনা উৎসবে উপস্থিত শত শত দর্শক-শ্রোতার সকল মলিনতা মুছিয়ে দিয়ে মনে এনে দিয়েছে এক অনাবিল প্রশান্তি।
একঝাঁক প্রগতীশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ সংগঠকের আয়োজনে কুইন্সের আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে রকওয়ে বীচে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই উৎসব।

প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব,বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ,মুলধারার রাজনীতিবিদ ও বৈজ্ঞানিক ড. নুরন নবী। এ সময় আয়োজক কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ ফজলুল রহমান, নুরুল আমিন বাবু, জাকারিয়া চৌধুরী,স্বীকৃতি বড়ুয়া, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর দস্তগীর, রামদাস ঘরামী, আসলাম আহমেদ খান,সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার প্রমুখ । আগামী বছর ব্যাপক আয়োজনে কার্নিভালের আয়োজনের ঘোষনা দিয়ে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোপাল স্যানাল।


বিকেল থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মগ্ন থাকলেও আয়োজক ও অতিথিদের বক্তৃতার সময় তাদের অতিকথনে উপস্থিত জোসনা প্রেমিকদের অনেককে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
উপস্থিত কয়েকজন সন্ধান২৪.কম প্রতিনিধিকে জানান, এবারের উৎসব অতিতের দুটি আয়োজনকে সকল দিক থেকে ছাপিয়ে গেছে। তবে আরও কিছুটা গোছানো হলে ভালো হতো। এত সুন্দর অনুষ্ঠান এত তারাতারি শেষ হলো ! কয়েকজনকে এমন মন্তব্য করতেও শোনা গেছে।


রাত সাড়ে নয়টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষনা করলেও গভীর রাত পর্যন্ত চলে উৎসব,হৈ-হুল্লোড়,ঘুড়ি ওড়ানো, খাওয়া-দাওয়া ও গান-বাজনা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও সাজু খাদেম। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন স্বনামধন্য শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, শাহ মাহবুব, রেশমী মির্জা, বিন্দু কণা, বাউল বেলাল করীম, করিম হাওলাদার, নতুন আলভান চৌধুরী, সাগ্নিক মজুমদার, জেরিন মাইশাসহ আরও অনেক শিল্পী। নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), নৃত্যাঞ্জলি ও মৃথান ড্যান্স একাডেমি। পাশাপাশি ছিল আবৃত্তি, গীতিকাব্য, বাউল গানের আসর এবং নানা সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উপস্থাপনা করেন তাহরিনা পারভীন প্রীতি ও স্বাধীন মজুমদার। গণযোগাযোগ ও মিডিয়া সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন সাংস্কৃতিক কর্মী আসলাম আহমাদ খান।


