সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্ক শহবের ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হলেন প্রবাসী বাংলাদেশি মীর আরিফ হোসেন চৌধুরী (৪৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনদিন হাসপাতালে ছিলেন। ওই দিনই ঘটনাস্থলে হামলাকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে। আরিফ হোসেন জানান, ওই দিন তিনি ব্রæকলিনের ২১০ ফ্রাঙ্কলিঙ্ক ষ্ট্রীটের একটি গ্রোসারীতে রাতে টিউটি করছিলেন। হঠাৎ জুডা হাইফোর্ড নামের আনুমানিক ৫০ বছরের একজন দুর্বৃত্ত তার দোকানে প্রবেশ করে। এরপর তাকে নানা ভাবে আক্রমণ করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসার নিয়ে তিনদিন পর বাড়ি ফেরেন।

আরিফ হোসেন সাপ্তাহিক আজকাল অফিসে এসে তাকে আক্রমনের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই দুর্র্বৃত্ত দোকানে প্রবেশ করে প্রথমে আমার কাছে ফোন চায়। আমি তাকে আমার ল্যান্ডফোনটি দিয়ে দিই। সে ফোনে কারও সঙ্গে যেন কথা বলে। তারপর সে আমার কাছে দোকানের ঠিকানা চায়। এরপর সে ল্যান্ডফোনটি দোকানের মেঝেতে ছুঁেড় মারে। এবং সাথে সাথে কিছু চকলেট আমার শরীরেও ছুঁড়ে মারে। সে সব সময় আমার দিকে হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চকলেটের ট্রে টি দিয়ে খুব জোরে আমাকে ধাক্কা দেয়। সেটা এসে আমার বুকের মধ্যে আঘাত করে এবং চকলেট গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। সাথে সাথে সে হিংস্র গতিতে আমার ক্যাশ কাউন্টারের সামনে এসে আমাকে এলোপাতাড়ি হাত দিয়ে আঘাত করে। একসময় আমাকে এমন ভাবে গলা টিপে ধরে এবং সে আমার কান কামড়ানোর চেষ্টা করে। তার সাথে অনেক জোর জবড়দস্তি করে আমি আমার কান সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করি । কাম কামড় দিতে না পেরে সে তখন আমার পিঠে কামড় দেয়। আমি তখন অনেক চিৎকার করি আর বলি ‘হেল্প মি হেল্প মি’। এবং তাকেও আমি অনেক বার ‘সরি’ বলি। এরপরে সে হাতের কাছে একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আমাকে মাথায়, গলায় এবং পিঠে অনেক খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাত করে। এতে আমি অনেক দূর্বল হয়ে পড়ি। তারপরও আমি অনেক কষ্ট করে ধস্তাধস্তি করতে করতে মূল ফটকের সামনে আসার চেষ্টা করি। সেখানেও সে আমাকে অনেক জোরে বুকের মধ্যে আঘাত করে এবং সামনের টেবিলে থাকা হ্যান্ড স্যানিটিজার হাতের মধ্যে নিয়ে সে সেটা আমাকে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে । আমি অনেক কষ্ট করে মুখ ফিরিয়ে নেই। সে না খাওয়াতে পেরে আমার চোখে মুখে মাখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে । সেটাও সে না পেরে আমার মাথার মধ্যে মাখিয়ে দেয়। আর আমি শুধু ‘হেল্প মি হেল্প মি’ করে চিৎকার থাকি যাতে করে বাহিরে কেউ একজন থাকলে আমাকে সাহায্য করে। এবং এক মিনিটের মধ্যে ল্যান্ড লড এসে পুলিশ কল করে। তখন সে আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি তৎক্ষণাৎ অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যাই। এর পরে আমি আর কিছুই বলতে পারি না শুধু দেখি চোখ মেলে অনেক পুলিশ এসেছে আমার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। আর আমি একটু একটু বুঝতে পাচ্ছি আমার হাত রক্ত দিয়ে ভিজে আছে।
বর্তমানে আরিফ হোসেন কিছুটা সুস্থ হলেও তার মাঝে সব সময় আতঙ্ক কাজ করছে। ডাক্তার তাকে দুইমাস বিশ্রাম নিতে বলেছেন।
আরিফ হোসেনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও। ৫ বছর আগে তিনি আমেরিকায় আসেন।