সন্ধান২৪.কম : ২৫ অক্টোবর নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক পুলিশদের সংগঠনের সাধারণ সভায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে এক নেতার ওপর হামলা হয়েছে। হামলার অভিযোগে অপর এক নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ট্রাফিক পুলিশের দুই ইউনিয়ন নেতাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
২৫ অক্টোবর, রোববার ম্যানহাটনের নরম্যান থমাস হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে কমিউনিকেশনস ওয়ার্কার্স অব আমেরিকা (CWA) লোকাল ১১৮২-এর সাধারণ সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
ইউনিয়নের সাধারণ সভা চলাকালে এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগে অপর এক নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ। পরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগকারী নেতা খান শওকত চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
হামলার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়নের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ সাঈদ ইসলাম এবং অভিযোগকারী নেতা খান শওকত। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্টদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মোহাম্মদ সাইদ ইসলাম শক্তিশালী এ ইউনিয়নের সেক্রেটারি/ ট্রেজারার হিসেবে বেশ কয়েকদফা নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাংশের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে জবাবদিহির দাবি জোরালো করার চেষ্টা করছিলেন খান শওকত ও তাঁর সমর্থকেরা।
আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে খান শওকত সেক্রেটারি। ট্রেজারার পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি ইউনিয়নের বর্তমান সেক্রেটারি/ট্রেজারারের দাপ্তরিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত দাবী করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, নেতৃত্বের কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রোববারের সাধারণ সভায়ও এসব বিষয় উঠে আসে। খান শওকত বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং সদস্যদের দাবিদাওয়া ও সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি আবেদনে অন্য সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন বলে জানা গেছে।
এ সময় মোহাম্মদ সাঈদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খান শওকত ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ শুরু করলে সাঈদ ইসলাম তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খান শওকতের অভিযোগ, এ সময় তিনি হামলার শিকার হন এবং মাটিতে পড়ে গিয়ে শরীরে আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ উপস্থিত হলে মোহাম্মদ সাঈদ ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রিসিঙ্কটে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। অন্যদিকে, খান শওকত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পর বাসায় ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন।
CWA লোকাল ১১৮২-এর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই পক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইউনিয়নের নেতৃত্ব, পদ-পদবি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ সদস্যদের অধিকার নিয়ে বিরোধ এখন ব্যক্তিগত সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
খান শওকত বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে সদস্যদের সমর্থন সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, এ বিরোধের জেরে ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। CWA লোকাল ১১৮২-এর কার্যক্রমেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান।
এমন প্রেক্ষাপটে ইউনিয়নের সাধারণ সভায় দুই বাংলাদেশি নেতার বিরোধ এবং হামলার অভিযোগ কমিউনিটির মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশি ট্রাফিক এজেন্টদের একাংশ মনে করছেন, নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিরোধ যদি প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বৃহত্তর বাংলাদেশি কর্মীসমাজের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনের মূল শক্তি সদস্যদের ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত সংগঠনের বিধিবিধান, প্রমাণ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ব্যক্তিগত বিরোধ যদি শারীরিক সংঘর্ষে গড়ায়, তাহলে কর্মীদের অধিকার আদায়ের বৃহত্তর লক্ষ্যই আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুত্র : Ibrahim Chowdhury ফেসবুক।
