সন্ধান২৪.কম: ১৬ ডিসেম্বর নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনৈতিক-সামাজিক ভাবে প্রতিহত করা প্রত্যয় নিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার্ল্ড ভেটের্যান্স ১৯৭১, ইউএসএ।

গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা খান মিরাজের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের অন্যতম সদস্য খুরশিদ আনোয়ার বাবলুর সঞ্চালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধারাবাদেও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার্ল্ড ভেটের্যান্স ১৯৭১, ইউএসএ‘র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন।
আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল আনসারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হিরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান সিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ ওয়ালী উল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, বাঙালীয়ানা’র সম্পাদক সাগর লোহানী, রাকসুর সাবেক ছাত্রনেতা মুজাহিদ আনসারী, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি মিথুন আহমেদ, অধ্যাপক হুসনে আরা বেগম, সংবাদ কর্মী সনজীবন কুমার, এ্যাড. জাকির হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ড.আফরিন রিতা , হেলাল মাহমুদ, টি মোল্লা, খান শওকত, হাকিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
সঙ্গীত পরিবেশন ও কবিতা পাঠে অংশ গ্রহন করেন আল আমিন বাবু,হাসানআল আব্দুল্লাহ,রাজিব ভট্টাচার্য্য,গোপন সাহা প্রমুখ।
আলোচনা পর্বে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বের প্রতীক, আত্মমর্যাদার স্মারক বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও ছায়ানট-এর ওপর সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের প্রতিবাদ করেন।
বিজয়ের মাসকে স্মরণ করিয়ে বক্তারা বলেন, আমাদের স্বাধীনতা কোটি মানুষের রক্তের বিনিময়ে কেনা। তাই এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে সকল শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং আত্মদানকারী বীরদের।
বক্তরা আরও বলেন,একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মুক্তির সংগ্রাম ছিল মূলত একটি নিরস্ত্র জাতির টিকে থাকার লড়াই, গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণ, নিপীড়ন এবং বঞ্চনার প্রতিবাদে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
বক্তারা বলেন,বিজয় অর্জনের এই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হন এবং সম্ভ্রম হারান লক্ষ লক্ষ মা-বোন। অসংখ্য ঘর-বাড়ি, জনপদ ধ্বংস হয়েছিল। এই যুদ্ধ ছিল একদিকে যেমন চরম বর্বরতার সাক্ষী, তেমনি অন্যদিকে বাঙালি জাতির সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মহাকাব্য।