নিউইয়র্কে ‘বিচার এড়াতে’ খুন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফাহিমকে

সন্ধান২৪.কম: খুনী হসপিলের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে যাওয়ায় পর বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা ফাহিম সালেহকে খুন করেছিলেন তার ব্যক্তিগত সহকারী টাইরিস ডেভন হসপিল।
গত শুক্রবার ম্যানহাটনের সুপ্রিম কোর্টে এ মামলার শুনানিতে বিচারকদের সামনে এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন হসপিলের আইনজীবী স্যাম রবার্টস। তিনি বলেন, ‘ওই সময় হসপিল চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন, যা তাকে খুন করার মতো চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল।’
হসপিলের আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, চুরির বিচারের সঙ্গে ফরাসি বান্ধবীকে হারানোর ভয়ও ছিল হসপিলের। সব কিছু মিলিয়ে ‘তীব্র মানসিক অস্থিরতা থেকে’ হসপিল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফাহিম সালেহ ছিলেন রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা। ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ম্যানহাটনের লোয়্যার ইস্ট সাইডে ৩৩ বছর বয়সী ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার খন্ড-বিখন্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর তিন দিন পর ফাহিমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী হাসপিলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। হত্যা, চুরি, লাশ গুম, আলামত নষ্ট করাসহ কয়েকটি অভিযোগে হসপিলকে অভিযুক্ত করে এই মামলার বিচার চলছে।
বিচার শুরুর পর হসপিল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, সালেহর চার লাখ ডলার সরানোর পর ধরা পড়েন হসপিল। সালেহ তাকে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ দিলেও তার ভয় ছিল, আইনের হাত থেকে তার বাঁচার কোনো সুযোগ নেই।
শুনানিতে রবার্টস বলেন, ‘হসপিলের ভয় ছিল, প্রেমিকা মেরিন শ্যাভেজ যদি তার চার লাখ ডলার চুরি করার কথা জেনে যায়, তাহলে তাকে ছেড়ে চলে যাবেন। ওই পরিস্থিতিতে হসপিল ভেবে দেখেন, তার সামনে দুটো পথ খোলা আছে। হয় তিনি আত্মহত্যা করবেন, নয়তো সালেহকে খুন করবেন। হসপিল দ্বিতীয়টি বেছে নেন।’
পুরো এক দিন সালেহর কোনো সাড়া না পেয়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন তার বোন। ভেতরে ঢুকে তিনি ফাহিমকে হত্যার সেই বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। আদালদের নথিতে বলা হয়েছে, ওই সময় খুনি ওই অ্যাপার্টমেন্টে লাশ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে সরিয়ে ফেলার কাজ করছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাহিমের বোন ওই ভবনে উপস্থিত হন এবং লবি থেকে কলিং বেল চাপেন। সেই শব্দেই ঘাতক সবকিছু ফেলে ভবনের পেছনের দরজা ও সিঁড়ি ব্যবহার করে পালিয়ে যান।
ম্যানহাটনের সহকারী জেলা অ্যাটর্নি লিন্ডা ফর্ড আদালতকে বলেছেন, হসপিল সালেহর ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলেন মুখে মাস্ক পরে। তারপর টেসার (এক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা ব্যবহার করে মানুষকে অচেতন করা যায়) ব্যবহার করে সালেহকে অচেতন করে ছুরিকাঘাত করেন। পরদিন মৃতদেহটি টুকরো টুকরো করেন এবং শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন।
হসপিল দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে। তবে তার কৌঁসুলিরা আশা করছেন মানসিক অবস্থা বিবেচনায় হসপিলের সাজা কমানো হতে পারে।
তরুণ ফাহিম সালেহ থাকতেন ইস্ট হিউস্টন স্ট্রিটের নিজের কেনা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সালেহর বাড়ি চট্টগ্রামে স›দ্বীপে। আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের ছেলে তিনি।

 

Exit mobile version