সন্ধান২৪.কম : বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সদ্য প্রয়াত সিরাজুল আলম খান। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে রাজনীতির এ নায়ক শত শত তারুণ্যকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। কেউ প্রাক যৌবনের দিনগুলোতে তাঁর সতীর্থ ছিলেন। অনুসারী অনুরাগী ছিলেন। কেউ একসাথে কারাবরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে আছেন সিরাজুল আলম খানের অনুসারীরা। সিরাজুল আলমের স্মরণ সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন। ১৯ জুন সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে ‘প্রবাসী নাগরি সমাজ’এই সভার আয়োজন করে।

শুরুতেই প্রয়াত সিরাজুল আলম খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ।
স্মরণ সভায় বিশিষ্ট সংগঠক ফখরুল আলম শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সিরাজুল আলম খানের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন।
শামসুদ্দীন গাজী, শামীম আহমেদ এবং নুরে আলম জিকুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুর রহমান, ডাঃ সুফিয়ান খন্দকার, মোর্শেদ আলম, মাফ মিসবাউদ্দীন, স্বপন বড়ুয়া, মোহাম্মদ হোসেন খান, হানিফ মজুমদার, রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী, আলী ইমাম সিকদার,ওমর ফারুক খসরু, জসীম উদ্দিন বাবু, মুজাহিদ আনসারী, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী,অধ্যাপিকা হোসনে আরা,মঈনুদ্দিন নাসের,সাঈদ তারেক,খোরশেদ চৌধুরী,শামসুদ্দিন আজাদ, আজাদ উদ্দিন, শাহান খান,আহসান হাবিব, সম্পাদক ফজলুর রহমান, ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন,গোলাম কিবরিয়া অনু,এনামুল হায়দার, রেজাউল করিম চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন লিটন ,নজরুল ইসলাম, ডাঃ চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান,হাকিকুল ইসলাম খোকন,আহসান হাবিব,চিত্তরঞ্জন সিংহ প্রমুখ।
প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ বলেন, একটি জাতীর স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে এর বাস্তবায়নে কাজ করেছেন সিরাজুল আলম খান। তিনি বলেন , জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের সাথে সিরাজুল আলম খানের নাম উচ্চারিত হয় ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়ে।
অন্যন্য বক্তরা সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে , তাঁর রাজনৈতিক দর্শন , রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং দেশ ও সমাজ ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপের জন্য আরও গবেষণা, আরও বিস্তৃত সময় নিয়ে কাজ করার প্রায়োজন রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সদ্য প্রয়াত সিরাজুল আলম খান ‘রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি বা সম্মান না পাওয়ায়’ প্রবাসীরা আক্ষেপ করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। কর্মপ্রয়াসে আমরা সহজেই সিরাজুল আলম খানকে ‘জাতির ভ্রাতা’ বলতে পারি।
সিরাজুল আলম পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাঁর কর্ম ও প্রয়াস হয়তো সফল হয়নি। যুগে যুগে এমন বহু বিপ্লব প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। কোন অবস্থায়ই সিরাজুল আলম খান রাজনীতিকে নিয়ে ব্যক্তিগত কোন অর্জনের চিন্তা করেননি। তবে বাংলাদেশের মানুষ সিরাজুল আলম খানের মতো মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে যাবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেই সিরাজুল আলম থেমে থাকেননি। তিনি জাসদ নামের রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তখন জাসদ না হলে বহু তরুণ পরিবর্তনের ভিন্ন আহ্বানে সাড়া দেয়ার আশংকা ছিল।
স্মরণ সভার উদ্যোক্তাদের অন্যতম ফখরুল আলম প্রবাসের শত ব্যস্ততার মধ্যেও দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। সমাপণী বক্তৃতায় তিনি বলেন,নেতা সিরাজুল আলম খানেকে আনুষ্ঠানিক স্মরণ করেই শেষ নয়। অনুসারী অনুরাগীদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি করে প্রয়াত নেতার চেতনাকে চর্চায় ও হৃদয়ে ধারণ করার অঙ্গীকার আমাদের। এ অঙ্গীকারে সবাইকে যূথবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য,চলতি মাসের ৮ তারিখ সিরাজুল আলম খান মারা যান, তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।