সন্ধান২৪.কম: ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার দাবিনিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ সময় একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সভায় অংশগ্রহনকারি নেতৃবৃন্দ।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ঐক্য পরিষদের কর্মকর্তাদের সোয়া ঘন্টা স্থায়ী একসভায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচারের ব্যাপারে মতবিনিময় হয়। সভায় সংগঠনের তিন সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, ড. টমাস দুলু রায় ও রণবীর বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য এবং উপদেষ্টা ড. দিলীপ নাথ ছাড়াও যোগদেন জগন্নাথ হল এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্তী এবং ইন্টারন্যাশন্যাল মতুয়া মিশন অফ নিউইয়র্কের সভাপতি ও জগন্নাথ হল এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুশীল সিনহা।

তারা একে একে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, তা’ ২০১৯ সালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে পুরণ করা হলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও উগ্রপন্থীরা আমাদের ভাই-বোনদের উপর ২০২০ মুরাদ নগরে কিংবা ২০২১ সালের শারদোৎসবে নারকীয় তান্ডব চালানোর দু:সাহস তো করতই না, এতদিনে হয়তো সম্পূর্ণভাবে বন্ধই হয়ে যেত সংখ্যালঘু নির্যাতন, যেমন বন্ধ হয়ে গেছে এ্যাসিড সন্ত্রাস। প্রতিশ্রæতি প্রদানের পাঁচ বছর পরও বিলটি পাশ না করা এবং ২০১১ সালে কয়েক হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতককে সনাক্ত করে জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন যে তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল তাদের বিচারকার্য এখনও শুরু না করায় গভীর হতাশা ও বিষ্ময় প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ ।
নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে বলেন যে, দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন চিরতরে বন্ধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা এ্যাক্টের খসড়া বিলটি তাঁরা ওয়াশিংটনস্থ রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন, সেটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে পাশ করতে হবে। সেখানে ১৬টি বিধি সংযোজনের অনুরোধ করা হয়েছে। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সংখ্যালঘু নাগরিকদের ‘সংখ্যালঘু’বলে স্বীকৃতি প্রদান,সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচারের জন্য প্রতি জেলায় একটি করে দ্রæত-বিচারের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালত প্রতিষ্ঠা,একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও একটি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন,১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সকলের বক্তব্য শুনে তাঁদের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত বলে স্বীকার করেন এবং এ’ ব্যাপারে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রæতি দেন।