সন্ধান২৪.কম : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ১৯শে নভেম্বর শুক্রবার হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে দুর্গোৎসবের সময় হয়ে যাওয়া সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদানসহ বেশ কিছু দাবিতে এই সমাবেশ।

প্রভু নিত্যানন্দ কিশোর দাসের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির ৩২টি সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেনী-পেশার প্রায় হাজারখানেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা নানা রকম ব্যানার পোস্টারসহ দায়ীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়া নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ১০টি বাসে করে ওয়াশিংটন ডিসি’তে আসেন।


ওয়াশিংটন ডিসি’র হিন্দুদের সংগঠন নীলাচলের সভাপতি প্রানেশ হালদার বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে ধর্ম চর্চা করতে পারার কথা। আমরা বাংলাদেশের অংশ। আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশ আমাদেরও দেশ। অন্যদের মত আমাদেরও অধিকার থাকা উচিৎ। সুতরাং সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের অধিকার নিশ্চিত করা উচিৎ। এর জন্য যদি আইন বা কোন ধরনের সচেতনতা প্রয়োজন হয়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য আমরা তাই চাই”।
হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ ছাড়াও ইউনাইটেড হিন্দুস অব ইউএসএ’র পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, ভারতীয় দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসে দেয়া স্মারকলিপিতে তারা ৮টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক দুর্গোৎসবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার ও নির্যাতিতদের পুনর্বাসনসহ ঐ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে– হেইট ও স্পীচ ক্রাইম আইন পাশ করে এর আওতায় অবিলম্বে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং জজ সাহাবুদ্দিন কমিশন প্রদত্ত তালিকায় চিহ্নিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার শুরু; নতুন বিচার বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংঘটিত সংখ্যালগঘু নির্যাতনের সকল ঘটনার শ্বেতপত্র তৈরী করা; ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহাল করে বাংলাদেশকে আবার ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিনত করা; সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয়, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু মানবাধিকার কমিশন গঠন করা; সংখ্যালঘুদের কল্যাণমূলক কাজের স্বার্থে আইনের মাধ্যমে হিন্দু-বৌদ্ধ খৃস্টান ফাউন্ডেশন গঠন এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’র নেতা সীতাংশু গুহু জানান, “আমাদের এই প্রতিবাদের একটাই উদ্দেশ্য। আর তা হলে বাংলাদেশ সরকারকে বলা, যথেষ্ট হয়েছে। আর কত ঘটনা ঘটলে আপনারা বলবেন যে, সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হচ্ছে। ২০১২ সালের রামুর ঘটনা থেকে আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। বিচার দ্রুত হওয়া উচিত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিৎ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকলেও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনটি হচ্ছে না। এখান থেকে আমরা বার্তা দিতে চাই- প্রতিবাদ চলছে, চলবে, যতদিন না আপনারা সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছেন”।
স্মরণ করা যেতে পারে, এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন দেখে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলা ও ভাংচুর চালানো হয় বাংলাদেশের অন্তত আটটি মন্দিরে। মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনার জেরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা হয় এবং পুলিশের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষে নিহত হন অন্তত চার জন। এর পরের কয়েক দিনে নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, রংপুর, ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ও উপাসনালয়ে হামলা, ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীতে নিহত হন দুই জন। পরে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


