সন্ধান২৪.কমঃ ২০২১ সালে বাংলাদেশে যৌন নির্যাতনের শিকার ১ হাজার ৬৩৭ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ৬৯২ জন মহিলা এবং ৯৪৫টি শিশু ও কিশোরী।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, সংগঠনের নির্বাহী পরিষদের মেম্বার অ্যাডভোকেট সানাইয়া ফাহিম আনসারি প্রমুখ।

এই বিষয়ে সুলতানা কামাল বলেন, “মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা মানেই সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া নয়। আমাদের দেশে মানবাধিকার সংস্কৃতির অভাব রয়েছে। মানবাধিকার মূলত প্রতিদিনের চর্চার বিষয়। পারিবারিক থেকে সামাজিক জীবনে চলতে ফিরতে এটির চর্চা করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে আমরা দায়ী করি তখন বলা হয় না তাঁরা দায়ী নয়। কাজে এই সমস্ত বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি যদি আমরা মানসম্মত জীবন যাপন করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই এই সংগঠেনর কাজ শুরু করি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো এসেছে, যেগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি তা যাচাই বাছাই করে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২১ সালে নারী শিশু ও কিশোরীদের প্রতি সহিংসতার তথ্যে জানানো হয়, দেশের ভিবিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও সংগঠনের সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা ধর্ষণ. গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতা বিগত সময়ের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দেশে কঠোর আইন থাকা সত্বেও এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার পেছনে বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা ও অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।”
এমএসএস’র তথ্যে জানানো হয়, ২০২১ সালে ৬৯২ জন নারী ও ৯৪৫ জন শিশু ও কিশোরী যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে ৩৯৬টি, গণর্ধষণের ঘটনার শিকার হয়েছেন ১০৭ জন মহিলা, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জন মহিলাকে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন নির্যাতিতা। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৮২ জন ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন আরো ৮২ জন নারী। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১ জন। অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ১৬ জন মহিলা। অপরদিকে একই বছর নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতনে ৩৩০ জন, ৮২ জনের অস্বাভাবিক মত্যু-সহ ৫৭৮ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। আত্মহত্যা করেছেন ৪২৩ জন নারী। অপহরণ করা হয়েছে ৫ জন নারীকে, নিখোঁজ রয়েছেন ২৩ জন নারী। নারী প্রতি সহিংসতার শিকারে রয়েছেন ১৪ জন প্রতিবন্ধী নারী। গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত জটিলতা ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৯৪৫টি শিশু ও কিশোরী যৌন নির্যাতন কাণ্ডে ৪৭৯টি শিশু ও কিশোরী ধর্ষণ, ১১২ জন গণধর্ষণ শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে ২৫টি শিশুকে, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে ৩ কিশোরী, ৭৮ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ১১১ শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১৩৭ শিশু এবং কিশোরী।


