ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভুল গোয়েন্দা তথ্য দেয়ায় রাশিয়ার গোয়েন্দা প্রধানকে গৃহবন্দী করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি’র বিদেশ বিভাগের প্রধান সার্জেই বেসেডা জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আক্রমণ করলে ইউক্রেন প্রতিরোধ করতে পারবে না। তার ভরসাতেই গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেনে ঢুকেই কঠিন বাধার মুখে পড়ে রুশ বাহিনী। বিব্রতকর কিছু পরাজয়ও দেখতে হয়েছে পুতিনকে। আর এ নিয়েই চটেছেন তিনি। ভুল তথ্য দেয়ায় সার্জেই বেসেডাকে গৃহবন্দী করেছেন। এ খবর দিয়েছে ডেইলি মেইল।
এফএসবি’র মধ্যে থাকা সূত্র থেকেই এই খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বৃটিশ গণমাধ্যমটি।
শুধু বেসেডাই নয়, তার সহকারী আনাতলি বলিউখকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে পুতিন অত্যন্ত অসন্তুষ্ট বলেও জানা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে এই সংস্থাটি ছিল পুতিনের অধীনেই। এখন ইউক্রেন যুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির জন্য এফএসবি’কেই দায়ি করছেন পুতিন। গোয়েন্দারা পুতিনকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে সামান্য প্রতিরোধের মুখে পড়বে এবং দেশটির জনগণ তাদের শাসকদের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ইউক্রেনের সামরিক শক্তি সম্পর্কেও পুতিনকে ভুল বুঝানো হয়েছিল। আক্রমণ করলে তারা সহজেই হাল ছেড়ে দেবে এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি ইউক্রেনে অভিযানের ঘোষণা দেন।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সি দানিলোভ বলেন, শুধু এফএসবি নয়, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮ কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন পুতিন। ইউক্রেনের প্রতিরোধের মুখে যুদ্ধের কৌশলও বদলে ফেলছেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার রুশ সেনা হত্যার দাবি করেছে কিয়েভ। তবে ইউরোপীয় গোয়েন্দারা বলছে, এ সংখ্যা ৬ হাজার থেকে ৯ হাজারের মধ্যে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে যুদ্ধের প্রথম ১৫ দিনে ৩ হাজারের মতো রুশ সেনা নিহত হয়েছে।


