সন্ধান২৪.কমঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত প্রাণ হারিয়েছেন। ছোট বোনের জন্য কেক হাতে বাড়ি ফেরার পথে একটি গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় তার জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটে।
নিশাতের জানাজা আজ মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে নিউজার্সির মুসলিম কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রোববার রাত তখন প্রায় ১২টা। কুইন্সের উডসাইডে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ আর ৬২ স্ট্রিটের মোড়ে একটি কেক হাতে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ১৯ বছরের নিশাত জান্নাত। কাজ শেষে সবে ট্রেন থেকে নেমেছেন, বাড়ি ফিরছেন — ছোট বোনের জন্য কেক হাতে নিয়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পশ্চিমমুখী রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ধরে আসা রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের একটি বিশালাকার গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে ক্রসওয়াকে পা রাখা নিশাতকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই ইএমএস কর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি ছিল মাত্র দশ মিনিটের হাঁটাপথ দূরে, ৫৫তম স্ট্রিটে।
নিশাতের বাড়ি ছিল দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দশ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে। কাজ শেষে ফেরার পথে দেরি হওয়ায় বড় বোন নওশিন জান্নাত মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের উপস্থিতি ও নিশাতের নিথর দেহ দেখতে পান।
নিশাত জান্নাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবার ২০১৭ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে আসে। নিশাতের বাবা হেলাল আহমদ উডসাইডের একটি মসজিদের ইমাম। চার বোনের মধ্যে নিশাত ছিলেন দ্বিতীয়। তার ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুটি ছোট বোন রয়েছে, যাদের একজনের জন্য কেক নিয়ে ফিরছিলেন তিনি।
বড় বোন নওশিন জান্নাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নিশাত সবসময় বলত—আশা রাখো, বর্তমানেই বাঁচো। সে নিজেই জানত না তার সময় এত কম।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড ঘটনার তদন্ত করছে। ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আজ , মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে নিশাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


