সন্ধান২৪.কম : নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় এই প্রথমবারের মত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হলো।
বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং জিয়াভক্ত সাধারণ মানুষ এসেছিলেন প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
জ্যামাইকাবাসী’র আয়োজনে এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, মাগফিরাত কামনা,দোয়া ও স্মৃতি ভোজ। স্মৃতিভোজে কয়েক হাজার মানুষকে আপ্যায়িত করা হয়।
জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীট ও হিলসাইড এভিনিউতে গত ২৯ মে শুক্রবার দুপুরে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আকাশ রহমান।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক মো: বিলাল চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ফারুক হোসেন রনি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমদ, মূলধারার রাজনীতিক ও জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার,সাপ্তাহিক বাংলাদেশ‘র সম্পাদক ডা.ওয়াজেদ এ.খান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা মোহাম্মদ কাশেম ও ফারুক হোসেন মজুমদার, শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আলআমিন সুমন, কো-চেয়ারম্যান আকিব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম মনির, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আশরাফ,মো: সাইফুল ইসলাম,মো.আই খান সুলতান,এসএম ফরমান হোসেন,আমিরুল ইসলাম আমির, রিপন মিয়া ও আলম সরকার,প্রধান সমন্বয়কারী মো. খলকুর রহমান, সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মাইনুদ্দীন মিয়াজী,খাদেমুল ইসলাম রুবেল, মিজানুর রহমান রুবেল ও মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকাশ রহমান বলেন,শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি বলেন, আমরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ করতে আসিনি, আমরা এসেছি সেই মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানাতে, যিনি সংকটের মুহূর্তে জাতিকে সাহস জুগিয়েছেন, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

বিশিষ্ট্য রাজনীতিক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম, সততার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন,তার কর্মনিষ্ঠা আজও আমাদের পথ দেখায়। তিনি মানুষের কল্যাণে রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল ইতিহাসের একটি নাম নন; তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন।

মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘বীর উত্তম’ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার সব জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আহ্বায়ক মো: বিলাল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অনন্য উচ্চতার নাম। রণাঙ্গনের সাহসী সৈনিক থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা এই নেতার জীবন ছিল দেশপ্রেম, সততা, কর্মনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জ্যামাইকায় এই আয়োজনের নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন উত্তরবঙ্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ কাশেম, যিনি জ্যাকসন হাইটসে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী সার্বজনীন ভাবে পালনের প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম। মোহাম্মদ কাশেম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই জ্যামাইকাতেও সার্বজনীন ভাবে শাহাদাত বার্ষিকী পালনের সুচনা করলেন বলে বেশ কয়েকজন জানা যায়।
প্রসঙ্গত, , ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।


