সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : দিন দিন ফুটবল বিশ্বকাপের জৌলুস তাই বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলি নিয়েও উৎসাহ থাকে ফুটবলপ্রেমীদের। এ বার তিন দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের খেলা। তবে সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে হবে না ফাইনাল!
৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। ৩৯ দিনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব যৌথ ভাবে পেয়েছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। মোট ১৬টি স্টেডিয়ামে হবে ১০৪টি ম্যাচ। আমেরিকার ১১টি শহরের ১১টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে।

ডালাস স্টেডিয়াম: স্টেডিয়ামটি আমেরিকায় এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। দর্শকাসনের বিচারে আসন্ন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। একসঙ্গে ৯৪ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন। ডালাস কাউবয়েজের ঘরের মাঠ। আমেরিকার ন্যশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) বৃহত্তম স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ন’টি ম্যাচ। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল হবে এখানে।
মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম: দর্শকাসনের নিরিখে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। ৮৩ হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন। এস্তাদিয়ো আজ়টেকা নামেও পরিচিত এই স্টেডিয়ামটি। পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনা দু’জনেই এই মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম: ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হয়েছিল সাড়ে ৮২ হাজার দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামে। এনএফএল-এর দল নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস এবং নিউ ইয়র্ক জেটস দলের ঘরের মাঠ এই স্টেডিয়াম। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামেই হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল।
আটলান্টা স্টেডিয়াম: ৭৫ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামটি এনএফএল দল আটলান্টা ফ্যালকনস এবং এমএলএস দল আটলান্টা ইউনাইটেড এফসি জর্জিয়ার ঘরের মাঠ। মার্সিডিস-বেনজ় স্টেডিয়াম নামে চেনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রয়োজনে স্টেডিয়ামটির ছাদ বন্ধ করা যায়। বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল হবে এখানে।
কানসাস সিটি স্টেডিয়াম: এনএফএলের দল কানসাস সিটি চিফসের ঘরের মাঠে খেলা দেখতে পারেন ৭৩ হাজার মানুষ। কানসাস সিটি চিফসের সমর্থকদের চিৎকারের জন্য বিখ্যাত স্টেডিয়ামটি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ স্টেডিয়াম।
হিউস্টন স্টেডিয়াম: ২০০২ সালে তৈরি এই স্টেডিয়ামের দর্শক আসন ৭২ হাজার। প্রয়োজন হলে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২ হাজার পর্যন্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এনএফএল-এর দল হিউস্টন টেক্সানসের ঘরের মাঠ হিসাবে পরিচিত।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম: ২০১৪ সালে উদ্বোধন হয় স্টেডিয়ামটির। তার পর থেকে এটি এনএফএল-এর দল সান ফ্রান্সিসকো ফোরটিনাইনার্সের ঘরের মাঠ। ৭১ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালে সুপার বোল ৫০ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রয়োজনে আসনের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো যায় বিভিন্ন খেলার জন্য উপযোগী এই স্টেডিয়ামে।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম: ২০২৬ বিশ্বকাপে জন্যই এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে। এনএফএলের দল লস অ্যাঞ্জেলস র্যামস এবং লস অ্যাঞ্জেলস চার্জার্সের ঘরের মাঠ এটি। ৭০,০০০ দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামে ২০২৮ অলিম্পিক্সের উদ্বোধনী ও সমাপ্তি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামী স্টেডিয়াম। ইন্ডোর–আউটডোর হাইব্রিড এই স্টেডিয়ামে আছে প্রায় স্বচ্ছ ছাদ, তার পাশের দিক খোলা। ফলে মাঠে বৃষ্টি পড়ে না। তবে বাইরে থেকে হাওয়া ঢুকতে পারে। গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে এই স্টেডিয়ামের দিকে।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম: ৬৯ হাজার দর্শকাসনের এই স্টেডিয়ামটি লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ড নামেও পরিচিত। ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য গত বছর নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্টেডিয়ামটি।
সিয়াটল স্টেডিয়াম: ঘোড়ার নালের আকৃতির এই স্টেডিয়ামটিতে ৬৯ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন। স্টেডিয়ামের উপরের দিকের আসনগুলিতে বসলে শহরের স্কাই লাইন দেখতে পাওয়া যায়।
বস্টন স্টেডিয়াম: ৬৫ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়ামটির আমূল সংস্কার হয়েছে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে। প্রয়োজনে ২০ হাজার আসন বৃদ্ধি করা যায় ২০০২ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটিতে।
মায়ামি স্টেডিয়াম: হার্ড রক স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। ৬৫ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন একসঙ্গে। এনএফএলেপ দল মায়ামি ডলফিনসের ঘরের মাঠ। এখানে হবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ।
ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়াম: ২০১০ সালের শীতকালীন অলিম্পিক্সের প্রধান স্টেডিয়ামেও হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ। দর্শকাসন ৫৪ হাজার।
মন্টেরে স্টেডিয়াম: ২০১৫ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটির পোশাকি নাম এস্তাদিও মন্টেরে। মেক্সিকোর নুয়েভো লিয়োনের গুয়াদালুপে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির ডাকনাম ‘এল গিগান্তে দে আসেরো’। অর্থাৎ ইস্পাতের দৈত্য। মেক্সিকোর ঘরোয়া লিগের দল মন্টেরের ঘরের মাঠের দর্শকাসন সাড়ে ৫৩ হাজার।
এস্তাদিও গুয়াদালাজারা: মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের গুয়াদালাজারার কাছে জাপোপানে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দম ফুটবল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৪৮ হাজার। মেক্সিকোর ক্লাব সিডি গুয়াদালাজারার ঘরের মাঠ।
আরও পড়ুন:
টরন্টো স্টেডিয়াম: কানাডার ওন্টারিয়োয় অবস্থিত স্টেডিয়ামে ৪৫ হাজার দর্শকাসন রয়েছে। এই মাঠেই কানাডার ফুটবল দল জামাইকাকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক


