সন্ধান২৪.কম : শীতে সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেব দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে । এর মধ্যে নিউইর্য়কের অবস্থা হবে সবচেয়ে ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শীতে সতর্ক থাকার হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করছেন মানুষ। দূরত্ববিধি মানছেন না। মাস্ক পরছেন না। জমায়েত করছেন। বড়দিন আসছে। এ ভাবে চললে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই কয়েক মাস খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কোভিড নিয়ে একটা ‘অনীহা’ তৈরি হয়েছে।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট বলছে, আমেরিকায় নতুন ২ লক্ষ ৫ হাজার ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৮৮ হাজার ২৮২। ‘কোভিড ট্র্যাকার প্রোজেক্ট’-এর সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার ‘হার্টল্যান্ড’-এর সাউথ ডাকোটা, নেব্রাস্কা, কানসাস, উইসকনসিন-সহ বহু রাজ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ। বেশির ভাগ হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা নেই, আইসিইউয়ে জায়গা নেই। স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব, কারণ তাঁরাও করোনা-আক্রান্ত। শহর ছাড়িয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামেও।
আমেরিকায় এক লাফে দৈনিক সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে যা রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ লক্ষের বেশি মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫ হাজার ২৪ জন। ফলে এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৮৮ হাজার ২৮২। আমেরিকার সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে থাকায় গোটা বিশ্বে করোনা রোগীর সংখ্যাও এক লাফে অনেকটাই বাড়ল। বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৬ কোটি ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৫।
আমিকায় সংক্রমণ বাড়ার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দু’দিন আগেই কোভিড ট্র্যাকার প্রজেক্ট-এর এক সমীক্ষায় উঠে আসে, আমেরিকার ‘হার্টল্যান্ড’-এর স্টেটগুলো যেমন সাউথ ডাকোটা, নেব্রাস্কা, কানসাস, উইসকনসিন-সহ বহু স্টেটে পরিস্থিতি ক্রমে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত দিন সংক্রমণ মোটামুটি ভাবে বড় শহরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সেই সংক্রমণ ক্রমে গ্রামীণ এলাকা এবং আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।
দ্রুত হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতেও শয্যার আকাল দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, চিকিত্সক, নার্স এবং চিকিত্সা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান এক চিকিত্সক। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। সামাজিক দূরত্ব পালন না করে জমায়েত করছেন। আমেরিকার সংক্রমণ জেটগতিতে বাড়ার এটা অন্যতম প্রধান কারণ বলেই মত বিশেজ্ঞদের।


