সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ সামলানো যতটা ঝক্কির, পরিবারে সকলের খেয়াল রাখাও ততটাই কঠিন। কাজেই মানসিক চাপ ও উদ্বেগের পাল্লাটা দুই ক্ষেত্রেই প্রায় সমান। শুধু লড়াইয়ের ধরনটা আলাদা।
পরিবার সামলানো সহজ, না কি কর্মক্ষেত্রের চাপের মোকাবিলা করতে করতে ঘর সামলানো কঠিন? এই নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। অনেকেই মনে করেন গৃহবধূদের জীবন আরামের, আবার অনেকের মতে চাকুরিজীবী মায়েদের জীবন বেশি চ্যালেঞ্জিং। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই তুলনাটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। উভয় ক্ষেত্রেই মহিলারা জীবনের প্রতি পর্বে নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হন। শিশুর জন্মের পরে চারপাশের অনেক কিছুই বদলে যায়। মায়েদের জীবন একেবারেই সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চাপ অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনে অবসাদ। তা গৃহকর্মরতাদের জন্য যেমন কঠিন, তেমনই চাকুরিজীবী মায়েদের জন্যও। শুধু লড়াইয়ের ধরনটা আলাদা।
সন্তানের জন্মের পরে ক্লান্তি অনেকের মধ্যেই আসে। কিন্তু তা যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তবে ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই অবসাদের উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও খিদের বোধ কমে যায়, কারও আবার দ্রুত ওজন কমতে থাকে। সর্ব ক্ষণ মনখারাপ, ঘুম না আসা, বিনা কারণেই অপরাধবোধ, এমনও হয়। এ বিষয়ে দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অউ হেল্থ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সন্তানের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের খেয়াল রাখতে রাখতে অবাসদের শিকার হন অনেক মায়েরাই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করেন না তাঁরা। কিন্তু ভিতরে ভিতরে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সেটা গড়িয়ে যায় অবসাদ অবধি।
গৃহকর্মরতা মায়েদের দিনভর সংসার সামলাতে হয়। পরিবারের সকলের খেয়াল রাখার পাশাপাশি সন্তানের চিন্তাও থাকে। এ বিষয়ে হার্ভার্ড বিজ়নেস স্কুলের পরিসংখ্যান বলছে, বেশির ভাগ গৃহকর্মরতা মা সন্তান ও পরিবারের বাকিদের খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবেন না। শারীরিক কোনও সমস্যাও তাঁরা গোপন করে যান বেশির ভাগ সময়েই। সারা দিন চার দেয়ালের মাঝে একই রুটিনে বন্দি থাকায় বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায় অনেকেরই। ফলে একঘেয়েমি ও তীব্র মানসিক অবসাদ গ্রাস করে।
চাকুরিজীবী মায়েদের একসঙ্গে দু’টি ভিন্ন জগৎ সামলাতে হয়—অফিস এবং সংসার। অফিসে থাকলে মনে হয় সন্তানকে সময় দেওয়া হচ্ছে না, আবার সন্তানের সঙ্গে থাকার সময়ে মনে হয় যে অফিসের অনেক কাজ জমে গিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, বেশ কিছু কর্মরতা মায়ের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, অফিসে কাজ শেষ করার তাড়া, টার্গেট পূরণ করার চাপ এবং একই সঙ্গে সন্তানের দায়দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁরা কেবল মানসিক ভাবে নয়, শারীরিক ভাবেও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন অনেক সময়েই। এ ক্ষেত্রে কর্মরতা মায়েরা নিজের শরীর-স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন না। সময়ের অভাবে পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের এবং বিশ্রামের অভাবের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ডায়াবিটিস ও মাইক্রেনের মতো ক্রনিক রোগের শিকারও হন তাঁরা।
কখন সতর্ক হবেন?
শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি থাকবেই। কিন্তু তা ‘ক্রনিক স্ট্রেস’-এ বদলে যাচ্ছে কি না, তা বোঝা জরুরি। তাই মায়েদের কিছু লক্ষণ খেয়াল রাখতে হবে।
১) অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ বা অল্পেই রেগে যাওয়া।
২) প্রায়ই মাথা যন্ত্রণা, খিদে কম, পিঠ বা শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা।
৩) রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অতিরিক্ত ক্লান্তি।
৪) কোনও কারণ ছাড়াই ঘন ঘন কান্না পাওয়া, দুশ্চিন্তা, অহেতুক আতঙ্কে ভোগা বা কখনও একেবারেই অনুভূতিশূন্য অবস্থা।
৫) স্মৃতিশক্তি কমতে থাকা, সদ্য ঘটা কোনও ঘটনাও ভুলে যাওয়া।
৬) যে কোনও বিষয়ে মনঃসংযোগ কমে যাওয়া।
মায়েদের ব্যস্ততা আর দায়িত্ব শেষ হওয়ার নয়। সন্তান বড় হয়ে গেলেও মায়েদের ভূমিকায় কোনও বদল আসে না। সেই কারণে মায়েদের শরীরের অযত্ন একেবারেই কাম্য নয়। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের সুস্থ থাকার পথটি খুঁজে নিতে হবে। কাজের দায়িত্ব ভাগ করতে হবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। নিজের খাওয়াদাওয়া ও শখগুলির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত। মানসিক চাপ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া ভাল। আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক


