সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : ভারতের রাষ্ট্রদূত দূত হয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছেন পশ্চিমবাংলার দীনেশ ত্রিবেদী। দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন। দীর্ঘদিন রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ। শুধু রবীন্দ্র-নজরুলই নয়, দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত।
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না-ঘটলে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব মিটলেই দীনেশকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে অনেক চিন্তাভাবনার পরই দীনেশকে ওই পদের জন্য বাছা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মা। আর তাঁর জায়গায় দীনেশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (হাই কমিশনার) করা হবে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকারের গোড়ার পর্ব থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা হলেও ‘অবনতি’ হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক মসৃণ করার উদ্যোগ চলছে দু’তরফেই। এই মসৃণ করার কাজেই দীনেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে ভারত সরকার।
দক্ষ সেতারবাদক দীনেশের হাতে শুধু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কই নয়, দুই বাংলার সম্পর্কও নতুন সুরে বাজতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
গুজরাতি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর কনিষ্ঠপুত্র দীনেশ। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক হন। তার পর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ।
২০২১ সালে ৬ মার্চ পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন। এখন বিজেপিতেই রয়েছেন দীনেশ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে, কিছু দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে তিনি এক বাংলা থেকে আর এক বাংলায় রওনা হবেন।


