সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : দু বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বাইয়ে গ্রেপ্তারের পর শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন । এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তার জামিন বাতিল এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে দুবাইতে একটি আন্তর্জাতিক ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি আদালত ২৭ জুলাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। দুবাইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন।
এর মধ্যে বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায় দুবাই পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইতে ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে। আমরা আশা করছি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে দেশে ফেরত আনতে পারব। বাংলাদেশ থেকে নিয়োগকৃত ল’ফার্ম এ ব্যাপারে কাজ করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ল’ফার্ম নিয়োগ করেছি। সার্টিফায়েড কপিটা জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুত বেইল (জামিন) ক্যানসেল করতে পারব এবং দ্রুত তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব।”
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।


