উদীয়মান পাঁচ অর্থনৈতিক শক্তি ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত জোট ব্রিকস বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ যোগানদাতা এ জোট মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১৬ শতাংশের অংশীদার। এ অবস্থায় জোটকে আরও শক্তিশালী করতে সদস্য বাড়াতে চায় রাশিয়া। ক্রেমলিন সহকারী ইউরি উশাকভ সোমবার এক বিবৃতিতে এ অভিপ্রায় জানান।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী উশাকভ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা জোটের সম্প্রসারণকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। যদিও বুঝতে পারছি আমাদের এ পথে খুব সাবধানে এগোতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কী প্রস্তাব দেব? সবার আগে আমরা ব্রিকস-এ যোগদানের জন্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করব এবং এতে যোগদানের পদ্ধতিগত বিষয়গুলো জানাব।’
ক্রেমলিন সহকারী জোর দিয়ে বলেন, এতে সদস্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই এবং নিয়ম রক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু মস্কো নয়, অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামতও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন উশাকভ। রাশিয়ার এ বক্তব্যের পরদিন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রিকসের সদস্য পদ পেতে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে ইরান। এই বিষয়ে নিজেদের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে ব্রিকসকে উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট হিসাবে অভিহিতি করেছে দেশটি। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান এ জোটের সদস্য পদ পেলে উভয়পক্ষই লাভবান হবে।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেছেন, আর্জেন্টিনাও ব্রিকসের সদস্য পদ পেতে আবেদন করেছে। যদিও এই বিষয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে এ বিষয়ক কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। টেলিগ্রামে লেখা এক বার্তায় মারিয়া বলেন, ‘হোয়াইট হাউজ যখন ব্রিকসকে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে-ঠিক তখনই আর্জেন্টিনা এবং ইরানের মতো শক্তি এই জোটের সদস্য হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার চীন আয়োজিত ব্রিকস জোটের সম্মেলন বিষয়ে এক বিশ্লেষণে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন লিখেছে, ‘ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমাদের একটি বার্তা দিয়েছেন। আর তা হলো-ইউক্রেনে হামলার জেরে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া একা নয়।’ আর এরই মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ইরানের জোটটিতে প্রবেশের ইচ্ছে প্রকাশ সেই মন্তব্যকেই সমর্থন করছে।


