সন্ধান২৪.কমঃ নিউ ইয়র্কের এক মঞ্চে আক্রান্ত হন সলমন রুশদি। গুরুতর জখম হওয়ার জেরে লম্বা অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। পরে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয় তাঁকে।

সলমন রুশদির উপর হামলাকে আদতে ইরান প্রসঙ্গে পশ্চিমের কাছে ‘জেগে ওঠার ডাক’ বলে উল্লেখ ঋষির।
ফাইল চিত্র।
সাহিত্যিক সলমন রুশদির উপর প্রকাশ্যে প্রাণঘাতী হামলা প্রসঙ্গে এ বার মুখ খুললেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঋষি সুনক। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ রাজনীতিকের মতে, এই হামলা আদতে ইরান প্রসঙ্গে পশ্চিমের কাছে ‘জেগে ওঠার ডাক’।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের এক মঞ্চে আক্রান্ত হন সলমন রুশদি। গুরুতর জখম হওয়ার জেরে লম্বা অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। পরে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয় তাঁকে। তবে এ দিন চিকিৎসকেরা জানান, ভেন্টিলেটর থেকে রুশদিকে বার করে আনা হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের দাবি, কথাও বলেছেন রুশদি। প্রাণ সংশয়ের মুখ থেকে ফিরে আসা রুশদির হামলাকারী ধরা পড়েছে ঘটনাস্থল থেকেই। তবে কী কারণে সে এই হামলা চালাল তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি তদন্তকারীরা। অনেকে মনে করছেন, রুশদির উপন্যাস ‘দ্য সেটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হওয়ার পরে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তাঁকে মারার যে ফতোয়া জারি করেছিল ইরান, এই হামলা তারই প্রতিফলন। ইরান এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সরাসরি সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সে দেশের কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলিতে এই ঘটনার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এমনকী, আক্রমণকারীকেও বাহবা দিতে ছাড়েনি তারা।
এই প্রেক্ষাপটেই সুনকের মন্তব্য, ‘‘যে ভাবে নৃশংসতার সঙ্গে সলমন রুশদির উপরে ছুরি চালানো হয়েছে তা আদতে পশ্চিমের কাছে জেগে ওঠার ডাক বলেই মনে করি। ঘটনা প্রসঙ্গে ইরানের অবস্থান আদতে সে দেশের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রসঙ্গটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার ক্ষেত্রে মাত্রা যোগ করল।’’ শিয়া চরমপন্থী সংগঠন আইআরজিসি-র নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে ইরানীয় সেনার অভিজাত বিভাগ এবং গোয়েন্দা বাহিনী। উল্লেখ্য, রুশদির উপর হামলায় ধৃত হাদি মাটার আইআরজিসি-র কট্টর সমর্থক বলেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
এ ছাড়া, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ফিরিয়ে আনতে পশ্চিমের তরফে কথা শুরুর প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গটিও এ দিন টেনে আনেন সুনক। এই নিয়ে তাঁর বক্তব্য ‘‘এখনই একটা নতুন, শক্তিশালী চুক্তির প্রয়োজন, সঙ্গে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানোর।’’ আশঙ্কার সুরে সুনক আরও বলেছেন, ‘‘ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং পুতিনের দিকে (ইউক্রেন পরিস্থিতি) নজর দিতে গিয়ে এ দিক থেকে নজর ঘোরালে চলবে না।’’
১৯৮৮ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে বইতে ইসলাম ধর্মের অপমান করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ইরানের তৎকালীন প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনি রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিলেন। তারপর থেকেই এই বইয়ের অনুবাদকদের উপর হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডের একটি প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা থেকে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বইটির বিষয়বস্তু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিচ্ছে।


